Sourav Cultural Organisation

Sourav’s Achievers

Sourav Cultural Organisation

সৌরভের বিভিন্ন বিভাগে কিছু কৃতি ছাত্র-ছাত্রী

 

বিগত পঞ্চাশ বছরে জামশেদপুরের সাংস্কৃতিক সংস্থা ‘সৌরভ’ থেকে উচ্চাসঙ্গীত, যন্ত্রসঙ্গীত, নৃত্য, তবলা, অঙ্কনশিল্প, আবৃত্তি ইত্যাদি বিভাগে শিক্ষালাভ করে ছাত্রছাত্রীরা একদিকে যেমন শিক্ষিত ও সংস্কৃতিমনস্ক হয়েছে, অন্যদিকে তেমনি অনেকেই নিজ নিজ ক্ষেত্রে তা প্রয়োগ ও পরিবেশন করে খ্যাতি অর্জন করেছে। এর পেছেনে একদিকে যেমন গুণী শিক্ষক-শিক্ষিকাদের নিরলস প্রয়াস ও শ্রম ছিল, অন্যদিকে তেমনি ছাত্রছাত্রীদের ছিল নিষ্ঠা ও অধ্যাবসায়।

এই প্রতিষ্ঠান অসংখ্য সঙ্গীতশিল্পী, যন্ত্রসঙ্গীতশিল্পী, নৃত্যশিল্পী, অঙ্কনশিল্পী এবং বাচিকশিল্পীর একটি ঐতিহ্যশালী শিক্ষাঙ্গন, যাদের মধ্যে বহু ছাত্র ছাত্রী আজ তাদের স্ব স্ব ক্ষেত্রে সুপ্রতিষ্ঠিত এবং সুপরিচিত।

  • রবীন্দ্রসঙ্গীত বিভাগ – সঙ্গীতশিল্পী অসীমা গোস্বামী। অসীমা ‘সৌরভ’এর তৎকালীন রবীন্দ্রসঙ্গীত শিক্ষক শ্রী সমর সিংহ জানার কাছে শিক্ষালাভ করেছিল এবং ১৯৯৫ সালে আকাশবাণী আয়োজিত সর্বভারতীয় সঙ্গীত প্রতিযোগিতায় রবীন্দ্রসঙ্গীত বিভাগে প্রথম স্থান অধিকার করেছিল। পরবর্তী পর্যায়ে আকাশবাণী জামশেদপুর কেন্দ্রের বি-হাই শিল্পী রূপে দীর্ঘ সময় ধরে সঙ্গীত পরিবেশনা করেছে। অর্পিতা দস্তিদার, অজন্তা মুখারজী, আত্রেয়ী গোস্বামী ‘সৌরভ’ এর একদা কৃতি ছাত্রী। জামশেদপুরে অসামান্য রবীন্দ্রসঙ্গীত শিল্পী হিসাবে তাদের যথেষ্ট পরিচিতি আছে। অপূর্ব তাদের কণ্ঠস্বর ও উপস্থাপনা।
  • অজন্তা ও আত্রেয়ীর গানের তালিম হয়ে ছিল শ্রী অজিত চ্যাটারজি ও শ্রী সমর সিংহ জানা মহাশয়ের কাছে। অর্পিতার সঙ্গীত শিক্ষক ছিলেন শ্রী সমর সিংহ জানা এবং শ্রী ধ্রুব পাণ্ডা।
  • উচ্চাঙ্গ সঙ্গীত ও লঘু সঙ্গীত বিভাগ- সৌরভের এই বিভাগে যেই সকল ছাত্র ছাত্রী বিভিন্ন অনুষ্ঠানে সঙ্গীত পরিবেশন করে যথেষ্ট খ্যতিলাভ করেছিল তাঁদের মধ্যে উল্লেখ্যযোগ্য নুপুর গোস্বামী, অনিতা মৈত্র, মধুমিতা গুহ মজুমদার, নন্দিতা আচার্য, ইন্দ্রদীপ মৈত্র, ইপ্সিতা মৈত্র ও কৃতিকা ভৌমিক।
  • এদের প্রত্যেকেরই প্রারাম্ভিক উচ্চাঙ্গ সঙ্গীত চর্চা শুরু হয় বিভিন্ন সময়ে সৌরভের বিভিন্ন খ্যাতনামা উচ্চাঙ্গসঙ্গীত গায়ক ও শিক্ষক শ্রী অজয় সেন চৌধুরী, শ্রী কমল চৌধুরী ও শ্রী শুভেন্দু রায় চৌধুরী মহাশয়ের কাছে। পরবর্তী সময়ে লঘুসঙ্গীতে শিক্ষালাভ করেছে সৌরভের শিক্ষক শ্রী অঞ্জন রায় ও শ্রী প্রণব চক্রবর্তী মহাশয়ের কাছে।
  • নুপুর গোস্বামী পরবর্তী সময়ে ‘আই টি সি’র স্কলারশিপ অর্জন করে এবং উচ্চতর শিক্ষার জন্য পণ্ডিত শ্রী অজয় চক্রবর্তী মহাশয়ের কাছে তালিম নেওয়ার সুযোগ পায়।
  • ইন্দ্রদীপ মৈত্র পরবর্তী কালে সঙ্গীতের তালিম নেয় শ্রদ্ধেয় উচ্চাঙ্গ সঙ্গীত শিল্পী চন্দ্রকান্ত আপ্তে, কলকাতার খ্যাতনামা সংগীতজ্ঞ শ্রী জয়নুল আবেদিন এবং প্রখ্যাত সুরস্রষ্টা অভিজিত বন্দোপাধ্যায়ের কাছে।
  • তবলা বিভাগ – সৌরভের তবলা বিভাগের দুজন কৃতি ছাত্র যারা জামশেদপুর এবং বিভিন্ন শহরে উচ্চাঙ্গসঙ্গীত ও লঘুসঙ্গীতের অনুষ্ঠানে তবলা সঙ্গত শিল্পী হিসাবে বহুলচর্চিত নাম – শঙ্কর ব্যানারজী ও স্বরূপ মৈত্র।
  • শঙ্কর ব্যানারজী তালিম নিয়েছে সৌরভের স্বনামধন্য শিক্ষক, সঙ্গীত জগতের একজন খ্যাতনামা গুণী মানুষ কেশব চন্দ্র চক্রবর্তী মহাশয়ের কাছে।
  • স্বরুপ মৈত্র প্রাথমিক স্তরে তালিম নেয় কিশোর ব্যানারজী মহাশয়ের কাছে, পরবর্তী কালে শ্রী শঙ্কর ব্যানারজী এবং পণ্ডিত অনিন্দ্য চ্যাটারজীর তত্ত্বাবধানে তবলা শিক্ষা অর্জন করে।
  • নৃত্য বিভাগ – সৌরভের এই বিভাগে যেই দুজন ছাত্রী কথক নৃত্য এবং অন্যান্য বিভিন্ন ধারার নৃত্য শৈলী পরিবেশন করে সংস্থার নাম উজ্জ্বল করেছে তৎসহ বিভিন্ন নৃত্য প্রতিযোগিতায় কৃতিত্ব লাভ করেছে তারা হোল মিতালী মৈত্র ও কুহেলিকা নাগ।
  • সৌরভের নৃত্য বিভাগের শিক্ষক শ্রী পরেশ দাশ ও শ্রী শঙ্কর মাহাত মহাশয়ের কাছে কুহেলিকা নৃত্যে তালিম নিয়েছে। মিতালীর নৃত্য শিল্পী হওয়ার পিছনে যথেষ্ট অবদান রয়েছে সৌরভের শিক্ষক শ্রী শঙ্কর মাহাত এবং শ্রী প্রভু শঙ্কর মিশ্র।
  • সেতার, গীটার ও বাঁশি বিভাগ এই বিভাগে কৃতি ছাত্র ছাত্রী যারা সৌরভের শিক্ষক শ্রীনন্দলাল বসু মহাশয়ের কাছে তালিম নিয়ে একজন শিল্পী হিসাবে যথেষ্ট সমাদৃত হয়েছে তারা হোল গীটারে মৃণাল কান্তি মিত্র, মিতা মজুমদার, মঞ্জু ভৌমিক, শেলি ভট্টাচার্য। সেতারে রঞ্জনা মুখার্জি, সুজাতা মুখার্জি। বাঁশি – পরেশ নাথ সুত্রধর।
  • আবৃতি ও শ্রুতি-নাটক বিভাগ – এই বিভাগে সৌরভের শিক্ষক শ্রী সুজিত মুখার্জি মহাশয় জামশেদপুরে একজন খ্যাতনামা আবৃতিকার ও নাট্য শিল্পী। ওনার কাছে তালিম ও অনুশীলনের কারনে যে সকল ছাত্র ছাত্রী বাচিক শিল্পী হিসাবে যথেষ্ট সমাদৃত হয়েছে তারা হোল অর্পিতা দস্তিদার, সুমিতা কুণ্ডু, সহেলী মৈত্র, সুবেদিতা দত্ত, মিতালী মৈত্র, কুন্তলিকা নাগ, অনন্যা দাসগুপ্ত, পিয়ালি মৈত্র ও জয় ব্যানারজী ইত্যাদি।