Annual Cultural Program
Sourav Cultural Organisationসৌরভের রজত জয়ন্তী বর্ষ, সুবর্ণ জয়ন্তী বর্ষ ও বিভিন্ন বার্ষিক অনুষ্ঠান নিয়ে কিছু প্রতিবেদন
‘সৌরভ’ আয়োজিত বিভিন্ন বার্ষিক অনুষ্ঠানগুলি একটা স্বতন্ত্র উচ্চতায় পৌঁছে যায় ‘সৌরভ’এর ছাত্র-ছাত্রী এবং আমন্ত্রিত স্বনামধন্য শিল্পীদের সঙ্গীত পরিবেশনায়।
বর্ষ ১৯৭৫: সৌরভের বার্ষিক অনুষ্ঠান প্রখ্যাত রবীন্দ্রসঙ্গীত শিল্পীদের উপস্থিতিতে একটি স্মরণীয় দিন হয়ে থাকবে। উপস্থিত শিল্পীরা ছিলেন শ্রীমতী সুচিত্রা মিত্র, শ্রীমতী মায়া সেন, শ্রী দ্বিজেন মুখোপাধ্যায় ও শ্রী সুশীল মল্লিক।
বর্ষ ১৯৭৭: সৌরভের বার্ষিক অনুষ্ঠানে উপস্থিত শিল্পীরা ছিলেন শ্রী দ্বিজেন মুখোপাধ্যায়, শ্রী সবিতাব্রত দত্ত ও হাস্য কৌতুকে ছিলেন শ্রী সুশীল চ্যাঁটারজী।
সৌরভের বিভিন্ন বার্ষিক অনুষ্ঠানের মঞ্চে বিভিন্ন সময়ে অনেক বিশিষ্ট তারকা শিল্পীবৃন্দের সমাগম হয়েছিল যা সদাসর্বদা প্রতিষ্ঠানের গৌরবময় অতীতের সাক্ষী হয়ে থাকবে। বিশেষ ভাবে উল্লেখ্যনীয় শিল্পীরা ছিলেন – বর্ষ ১৯৮০ সনে অনুষ্ঠিত হয়েছিল শ্রীমতী পুরবী দত্ত ও শ্রী স্বরাজ রায় নিবেদিত নজরুলগীতি ও আধুনিক গানের আসর। হাস্যকৌতুকে দর্শক বৃন্দকে প্রানখোলা হাসিতে মাতিয়ে তুলেছিলেন শ্রী দীপক গাঙ্গুলি
বর্ষ ১৯৮৩ সনে আমন্ত্রিত শিল্পীরা ছিলেন শ্রীমতী সুপ্রভা সরকার ও শ্রী সবিতাব্রত দত্ত। নজরুল গীতি ও স্বদেশী সঙ্গীতের আবহে দর্শকবৃন্দ আপ্লুত হয়ে উঠেছিলেন।
বর্ষ ১৯৮৫ সনে সৌরভের মঞ্চে একটি সঙ্গীত সন্ধ্যায় সঙ্গীত পরিবেশন করে গেছেন শ্রী অনুপ ঘোষাল এবং শ্রী স্বরাজ রায়।
সৌরভ আয়োজিত বর্ষ ১৯৮৯ সনে আরও একটি রবীন্দ্রসঙ্গীত-নজরুলগীতির সঙ্গীতমুখর সন্ধ্যায় আমন্ত্রিত শিল্পীরা ছিলেন শ্রী ধীরেন বসু ও শ্রী স্বপন গুপ্ত।
দু’দিনব্যাপী ‘সৌরভ’এর ১৬তম বার্ষিক অনুষ্ঠানে প্রথমদিনে ছিল ছাত্র-ছাত্রীদের কণ্ঠসঙ্গীত- যন্ত্রসঙ্গীত-বাদ্যসঙ্গীত ও নৃত্যনাট্যের অনুষ্ঠান এবং দ্বিতীয়দিন ছিল দুই বিখ্যাত সঙ্গীতশিল্পী শ্রী উৎপলেন্দু চৌধুরী এবং শ্রী সৈকত্র মিত্রর সঙ্গীত পরিবেশন। অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত প্রধান অতিথি ছিলেন জামশেদপুরের অন্যতম বিশিষ্ট সমাজকর্মী, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ী মাননীয় বেলি বোধনওয়ালা মহাশয়।
সৌরভের রজতজয়ন্তী বর্ষ উদযাপিত হয়েছিল ২১মার্চ ও ২২মার্চ, ১৯৯৮ সন। দুদিন ব্যাপি উক্ত অনুষ্ঠানের প্রথম দিন প্রধান অতিথি ছিলেন জামশেদপুরের বিশিষ্ট চিকিৎসক ও খ্যাতনামা সাহিত্যিক ডঃ বিষ্ণুপদ মুখোপাধ্যায়। দ্বিতীয় দিন প্রধান অতিথি ছিলেন জামশেদপুরের আরও একজন বিশিষ্ট চিকিৎসক তথা সৌরভের মুখ্য পৃষ্ঠপোষক ডঃ অমল কুমার বোস। অনুষ্ঠানের প্রথম দিনে সৌরভের ছাত্র ছাত্রীরা সঙ্গীত ও নৃত্য পরিবেশন করে, অতঃপর আমন্ত্রিত অথিতি শিল্পী সনাতন দীপ ভজন, ঠুমরী ও গজল পরিবেশন করেন। দ্বিতীয় দিন কোলকাতার কয়েকজন বিশিষ্ট শিল্পী যথাক্রমে শ্রী অমিত গাঙ্গুলি, শ্রী ভানু কুমার ও শ্রীমতী বিজয়া সঙ্গীত পরিবেশন করেন তথা হাস্যকৌতুকে শিল্পী শ্রী গৌতম সরকার তাঁর অসামান্য অভিনয়ের মাধ্যমে দর্শকবৃন্দ কে মোহিত করেন।
ভারতীয় শাস্ত্রীয়সঙ্গীত জগতে ওস্তাদ জয়নুল আবেদিন একটি উজ্জ্বল নাম। বিগত ২০০২ সালে ‘সৌরভ’এর ২৯তম বার্ষিক অনুষ্ঠানে ওস্তাদ জয়নুল আবেদিন শাস্ত্রীয় সঙ্গীত পরিবেশন করেছিলেন।
সৌরভের প্রযোজনায় ও কোলকাতার খ্যাতনামা ‘আই টি সি সঙ্গীত রিসার্চ একাডেমি’ র পৃষ্ঠপোষকতায় জামশেদপুরের ‘রবীন্দ্র ভবন’ প্রেক্ষাগৃহে সারাদিন ব্যাপি একটি উচ্চাঙ্গসঙ্গীতের অনুষ্ঠান হয়েছিল। উপস্থিত তারকা শিল্পীরা ছিলেন শ্রদ্ধেয় পণ্ডিত অজয় চক্রবর্তী, শ্রী তুষার দত্ত, কুমারী রিম্পা শিব, শ্রী সমর সাহা, শ্রী শুভঙ্কর ব্যানারজী এবং আরও অনেকে।
জামশেদপুরের ‘মিলনী ‘প্রেক্ষাগৃহে সৌরভ আয়োজিত আরও একটি উচ্চাঙ্গসঙ্গীত অনুষ্ঠানের প্রথম অধ্যায়ে শাস্ত্রীয় সঙ্গীত পরিবেশন করেছিলেন শ্রদ্ধেয় শ্রী অরুন ভাদুড়ি এবং তবলা সঙ্গতে ছিলেন শ্রী তারক সাহা। পরবর্তী অধ্যায়ে খ্যাতনামা যন্ত্রসঙ্গীত শিল্পী শ্রী দেবাশিস বোস ম্যান্দলিনে শাস্ত্রীয় সঙ্গীত পরিবেশন করেন ও তবলা সঙ্গতে ছিলেন শ্রী শুভঙ্কর ব্যানারজী।
সৌরভের প্রযোজনায় জামশেদপুরের ‘রাজেন্দ্র বিদ্যালয় ‘প্রেক্ষাগৃহে কলকাতার প্রখ্যাত শিল্পী বৃন্দের অংশগ্রহণে আনন্দমুখর একটি উচ্চাঙ্গসঙ্গীত সন্ধ্যা নিবেদিত হয়েছিল। উপস্থিত শিল্পীরা ছিলেন কণ্ঠসঙ্গীতে শ্রী অজয় চক্রবর্তী ও তবলা সঙ্গতে সহযোগিতা করেছিলেন শ্রী সমর সাহা । সরোদ বাদনে ছিলেন শ্রী বুদ্ধদেব দাসগুপ্ত ও তবলা সঙ্গতে ছিলেন শ্রী তন্ময় বোস। তবলা লহরা পরিবেশন করেছিলেন শ্রী শঙ্কর ঘোষ।
সৌরভের বার্ষিক অনুষ্ঠানের আরও একটি উল্লেখযোগ্য উপস্থাপনা ছিল ‘মিলনি ‘প্রেক্ষাগৃহে দুদিন ব্যাপী নাটক ও কবিতা পাঠের আসর। প্রথম দিনে অনুষ্ঠানের প্রথম পর্যায়ে সৌরভের ছাত্র ছাত্রীদের দ্বারা পরিবেশিত হয়েছিল শ্রুতি নাটক। পরবর্তী পর্যায়ে আবৃতি পরিবেশন করেন কলকাতার খ্যাতনামা শিল্পী শ্রদ্ধেয় শ্রী বসন্ত চৌধুরী। দ্বিতীয় দিনে চিত্তরঞ্জন শহরের ‘অযান্ত্রিক’ নাট্যগোষ্ঠী ‘গণদেবতা ‘নাটকটি মঞ্চস্থ করেন।
সৌরভের প্রেক্ষাগৃহ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত ছিলেন শিল্পী শ্রী বিভবেন্দু ভট্টাচার্য। শিল্পীর শ্রুতিমধুর কণ্ঠসঙ্গীত দর্শক বৃন্দকে যথেষ্ট পরিতৃপ্ত করেছিল।
২১শে ডিসেম্বর ২০২৩ বর্ষ তারিখে ‘সৌরভ’ প্রেক্ষাগৃহে ‘ওস্তাদ আলাউদ্দিন খান মঞ্চে’ সুবর্ণজয়ন্তী বর্ষ পূর্তি উপলক্ষ্যে একটি সঙ্গীতানুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। এই অনুষ্ঠানের প্রথম পর্বে উচ্চাঙ্গসঙ্গীত পরিবেশন করেছিলেন বেলুড় মঠের স্বামীজি শ্রীকৃপাকরানন্দ মহারাজ। তাঁকে তবলায় সহযোগিতা করেছিলেন অমিতাভ সেন এবং হারমোনিয়ামে সুজন চ্যাটারজী।
সৌরভ আয়োজিত বিভিন্ন কবিতা পাঠের আসরের মধ্যে একটি উল্লেখযোগ্য কবিতাসভা, যার শিরোনাম ছিল ‘আজকের কবিতা’। বাংলা কবিতার চারজন বিশিষ্ট কবি সেই সন্ধ্যায় একদিকে যেমন তাঁদের স্বরচিত কবিতা পাঠ করেছিলেন, অন্যদিকে তেমনি সমকালীন বাংলা কবিতার ধারা ও প্রবণতা নিয়ে আলোচনা করেছিলেন। সেই চারজন কবি ছিলেন বারীন ঘোষাল, নীতা বিশ্বাস, যাদব দত্ত ও ইন্দ্রনীল ঘোষ।
সৌরভের বার্ষিক অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সময়ে ছাত্র-ছাত্রীদের আঁকা ‘ছবি প্রদর্শনীর ‘আয়োজন করা হয়ে থাকে। এই রকমই একটি প্রদর্শনীতে যে আলোচনাসভা হয়েছিল তাতে আমন্ত্রিত হয়ে এসেছিলেন – মৃদুল বন্দ্যোপাধ্যায়, ভূদেব ভকত এবং আরও কিছু বিশিষ্ট ব্যাক্তি।
নাট্যচর্চায় ‘সৌরভ’ একসময় খুবই সক্রিয় ছিল। বিভিন্ন বার্ষিক অনুষ্ঠানে ‘সৌরভ’ এর প্রযোজনায় মঞ্চস্থ হয়েছিল কিছু নাটক। প্রসঙ্গত উল্লেখ করা যেতে পারে কয়েকটি নাটকের শিরোনাম বন্দরের কাল, জয়া, স্কাইল্যাব, রাম শ্যাম যদু, স্ফিংস ইত্যাদি। বন্দরের কাল নাটক ‘সৌরভ’এর শিল্পীরা মঞ্চস্থ করেছিলেন জামসেদপুর শহরের বিভিন্ন মঞ্চে, চিত্তরঞ্জন শহরের ঐতিহ্যশালি রঙ্গমঞ্চ ‘বাসন্তী ইনস্টিটিউট’ প্রেক্ষাগৃহে এবং কলকাতার কাশী বিশ্বনাথ মঞ্চে।
বার্ষিক অনুষ্ঠানে ‘সৌরভ’ এর ছাত্র-ছাত্রীরা বিভিন্ন সময়ে মঞ্চস্থ করেছে নানা ধরনের নৃত্যনাট্য। যার মধ্যে সেরা ও উচ্চ প্রশংসিত নৃত্যনাট্য গুলি হোল সাধু, শাপমোচন, মৃগয়া, উত্তরণ আদি।

